
ডেস্ক রিপোর্ট
২০২২ সালের ৯ নভেম্বর জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. মো. শফিকুর রহমানের ছেলে ডা. রাফাত চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম।
গ্রেপ্তারের পর সিটিটিসির তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রহমত উল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ডা. রাফাত চৌধুরী নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মভীরু তরুণদের উগ্রবাদী ও জিহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০২১ সালে ডা. রাফাত চৌধুরী রোহিঙ্গাদের পক্ষে তথাকথিত ‘জিহাদে’ অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় দুটি সশস্ত্র সংগঠন—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এ সময় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় আরএসও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে বলে সিটিটিসি সূত্র জানায়।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উঠে আসছে, জুলাই–আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৫ আগস্টের পরে ডা. রাফাত চৌধুরীকে নীরবে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এই মুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এ ধরনের মুক্তি শুধু একক কোনো ঘটনা নয়; একই সময় আরও কয়েকজন জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মুক্তির ফলাফল ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্বেগজনক ঘটনায় প্রতিফলিত হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে শরীয়তপুরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়। এছাড়া কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর নজরদারি ও আইনি প্রক্রিয়া শিথিল হলে তা আবারও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা জঙ্গিবাদে অভিযুক্তদের মুক্তি, পুনর্বাসন এবং নজরদারি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন।